Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৫ সালের শেষের দিকে হতে পারেঃ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ

নির্বাচন ২০২৫ সালের শেষের দিকে বা ২০২৬ সালের শুরুতে হতে পারে, তবে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও সময় লাগতে পারে—এমনই জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার সকাল ১০টায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার তৃতীয় ভাষণ।



ড. ইউনূস বলেন, "২০২৫ সালের শেষের দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে, যদি নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে আরও ছয় মাস অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।"
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য হলো একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজন করা, যা দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, "নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ওপর আমাদের আগামী নির্বাচন অনেকাংশে নির্ভর করছে। সুষ্ঠু ভোটার তালিকা তৈরি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।"

ড. ইউনূস ভোটার তালিকা হালনাগাদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "গত তিনটি নির্বাচনে ভোটারদের সঠিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এবার ভোটার তালিকায় সবার নাম অন্তর্ভুক্ত করা এবং নতুন ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা একটি বড় দায়িত্ব।"

তিনি আরও বলেন, "গত ১৫ বছরে যারা ভোটার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তাদের সঠিকভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে, যা তাদের জীবনের একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হবে।"

প্রধান রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে ড. ইউনূস বলেন, "আমি বারবার আপনাদের কাছে অনুরোধ করেছি প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে। আমাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত জাতীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা।"

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ইতোমধ্যে নতুনভাবে গঠিত হয়েছে এবং তারা তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ভোটাধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, "আমরা এমন একটি ঐতিহ্য তৈরি করতে পারি, যেখানে প্রথমবারের ভোটাররা ১০০ শতাংশ ভোটদানে অংশগ্রহণ করবে। এটি নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার সাহস করবে না।"

ড. ইউনূস তার ভাষণে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ